ও মা, তুমি নেই তাও বেশ আছি। নতুন
মা. আমায় ভীষণ ভালো খেতে দেয়.
বাসি ভাত, পচা তরকারি আর নষ্ট
ডালে। আমার খুব ভালই পেট ভরে যায়।
মা ও মা ! জানো ? আমি এখন শার্ট ধুতে
পারি। তাই প্রতিদিন. বাড়ি শুদ্ধু
লোকের কাপর ধুই আমি। জানো মা.........
পড়তে এখন আমার আর ভালো লাগেনা।
আমার এখন আর কোন বই নেই, আমার এখন
কোন খাতা নেই, কলম নেই, নেই কোন
স্কুল ব্যাগ। জানো মা...... আমার নতুন
ছোট ভাই ও. আমায় প্রায়লাথি দেয়।
আমায় ভীষণ ভালবাসে কিনা? ওকে
আমি প্রতি দিন. জুতো মোজা পরিয়ে
দেই। মাঝে মাঝে ওর বন্ধুদের ও পরাই.
এতে আমার আনন্দ হয় মা। তোমার দেয়া
বিছানাটায়. এখন ভাই সোয়ওর খুব
পছন্দের. ওটা আমার কথা ভাবছো? আমি
সিঁড়ির নিচে মাদুর পেতে শুই. আমার
একটুও কষ্ট হয়না। মা জানো? ঈদ এলে
আমি পুরনো কাপড় পাই। সে কাপড়ে
তোমার ছেলে কে. রাজকুমার
দেখায়.মা। যে কিনা এক রাজ্যহীন
রাজকুমার. মা জানো? বৃষ্টি হলে আমি
আজও ভয় পাই. তোমার শেষ পরনে যে
কাপড় ছিল. ওটা ঘরথেকে লুকিয়ে
এনেছি গো। মা ওটা জুড়ে যে তোমার
গন্ধ. ও গন্ধে আমার আর ভয় হয় না। মা
আমার একটা কথা রাখবে? আমায় কয়েক
দিনের. ছুটির ব্যবস্থা করে দেবে?
তোমার কাছে গিয়ে থাকব দু দিন। একটু
শান্তিতে ঘুমাব তোমার বুকে।
Thursday, July 2, 2015
একদিন এক ভিক্ষুক
রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তার ভীষণ
ক্ষুধা পেল । সে কিছুদূর যাবার পর
বিশাল
গেটওয়ালা একটা বাড়ি দেখতে পেল ।
মনে মনে খুব খুশী হল এই ভেবে যে ,
বড়োলোকের বাড়ী আজকে একটু মজার
কিছু খেতে পারবে ।
ভাবতে ভাবতে সে বাড়ির
দারওয়ানকে বলল, সে অনেক ক্ষুধার্ত
কিছু খেতে দিবে? দারওয়ান বলল, ঠিক
আছে তুমি বাহিরে বস।
আমি মেমসাবকে জিজ্ঞাসা করে আসি ।
ভিক্ষুক বলল ঠিক আছে ভাই । যখন
দারওয়ান ভেতরে গেল, ভিক্ষুক দেখল
একটা বড় সুন্দর খাঁচার ভেতর খুব সুন্দর
একটা কুকুর । তার
সামনে একটা প্লেটে অনেক মাংস
দিয়ে রাখা হয়েছে।
সে দেখে মনে মনে আরও খুশী হল ।
ভিক্ষুক মনে মনে ভাবল,
কুকুরকে এতো মাংস
দিছে তাহলে তো আমাকেও অনেক
ভালো খাবার দিবে। এদিকে দারওয়ান
যখন গৃহকর্ত্রীর
কাছে গিয়ে ভিক্ষুককে খাবার দিবার
কথা বলল, তখন গৃহকর্ত্রী তার উপর
রেগে গিয়ে বলল, খাবার কি আকাশ
থেকে পড়ে যে চাইলেই খাবার
দিতে হবে ? তোর কাজ
গেটে দাঁড়িয়ে থাকা, তুই এই
খানে কেন এলি ? আর যদি এই
ভাবে কাজ
ফেলে আসবি তাহলে বিদায় করে দেব ।
সামান্য একটু খাবার চাইতে এসে এত
কথা শুনতে হল তাকে। দারোয়ান
মনে মনে খুব কষ্ট পেল । এই ভেবে আরও
দুঃখ হচ্ছিল তার,
ভিক্ষুকটা ক্ষুধা পেটে বসে আছে,
কিভাবে তাকে গিয়ে বলবে, এত বড়
বাড়ি দেখলে কি হবে তোমাকে একবেলা খাওয়ানোর
মতন খাবার তাদের নেই ।
ভাবতে ভাবতে সে ভিক্ষুকের
কাছে আসলো এবং বলল, ভাই
ওনারা ধনী মানুষ তো, খাবার কম খায়
শরীর ভাল রাখার জন্য। তাই খাবার
রান্নাও করে কম, এজন্য
তোমাকে দেবার মতন খাবার নাই । এই
কথা বলে নিজের পকেট থেকে ৫
টাকা বের করে বলল আমার কাছে এই
কয়টা টাকাই আছে, তুমি কিছু খাবার
কিনে খেয়ে নিও। ভিক্ষুকের
মনটা খারাপ হয়ে গেল।
সে দারওয়ানের টাকাটা নিয়ে হাত
তুলে দোয়া করল , হে আল্লাহ্
যে আমাকে ক্ষুধা নিবারণের জন্য তার
যা ছিল তাই আমাকে দিয়ে দিল
তাকে তুমি দুনিয়া এবং আখিরাতের
ধনী বানিয়ে দিও । এই
কথা বলে সে চলে গেল ।
কিছুদিন পর দারওয়ান একটা লটারির ১ম
পুরস্কার পেল । সে ঐ
টাকা দিয়ে বিজনেস শুরু করল,
কিছুদিনের মধ্যেই তার অনেক
টাকা হয়ে গেলে । সেই
টাকা দিয়ে সে একটা আশ্রম বানাল ।
যেখানে অসহায়, অনাথ , বয়স্ক লোকজন
থাকত ।
এদিকে যে বাড়িতে সে কাজ
করতো সেই বাড়ির কর্তা হঠাৎ
মারা যায় । ছেলেমেয়েরা সবাই যার
যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত । বাড়ির
কর্ত্রী সবার কাছে বোঝা হয়ে উঠল ।
সবাই মিলে তাকে ওই দারওয়ানের
আশ্রমে রেখে আসলো । আসার পর দেখল
তার বাড়ির এক সময়ের দারওয়ান এই
আশ্রমের মালিক । ভাগ্যের কি নির্মম
পরিহাস এই আশ্রমে সেদিনের সেই
ভিক্ষুকটাও থাকে ।"
--এই লেখা যদি কারো মনে একটুও দাগ
কাটে আর অসহায়দের দিকে সাহায্যের
হাত বাড়ায় তাহলেই লেখার
সার্থকতা ।
রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তার ভীষণ
ক্ষুধা পেল । সে কিছুদূর যাবার পর
বিশাল
গেটওয়ালা একটা বাড়ি দেখতে পেল ।
মনে মনে খুব খুশী হল এই ভেবে যে ,
বড়োলোকের বাড়ী আজকে একটু মজার
কিছু খেতে পারবে ।
ভাবতে ভাবতে সে বাড়ির
দারওয়ানকে বলল, সে অনেক ক্ষুধার্ত
কিছু খেতে দিবে? দারওয়ান বলল, ঠিক
আছে তুমি বাহিরে বস।
আমি মেমসাবকে জিজ্ঞাসা করে আসি ।
ভিক্ষুক বলল ঠিক আছে ভাই । যখন
দারওয়ান ভেতরে গেল, ভিক্ষুক দেখল
একটা বড় সুন্দর খাঁচার ভেতর খুব সুন্দর
একটা কুকুর । তার
সামনে একটা প্লেটে অনেক মাংস
দিয়ে রাখা হয়েছে।
সে দেখে মনে মনে আরও খুশী হল ।
ভিক্ষুক মনে মনে ভাবল,
কুকুরকে এতো মাংস
দিছে তাহলে তো আমাকেও অনেক
ভালো খাবার দিবে। এদিকে দারওয়ান
যখন গৃহকর্ত্রীর
কাছে গিয়ে ভিক্ষুককে খাবার দিবার
কথা বলল, তখন গৃহকর্ত্রী তার উপর
রেগে গিয়ে বলল, খাবার কি আকাশ
থেকে পড়ে যে চাইলেই খাবার
দিতে হবে ? তোর কাজ
গেটে দাঁড়িয়ে থাকা, তুই এই
খানে কেন এলি ? আর যদি এই
ভাবে কাজ
ফেলে আসবি তাহলে বিদায় করে দেব ।
সামান্য একটু খাবার চাইতে এসে এত
কথা শুনতে হল তাকে। দারোয়ান
মনে মনে খুব কষ্ট পেল । এই ভেবে আরও
দুঃখ হচ্ছিল তার,
ভিক্ষুকটা ক্ষুধা পেটে বসে আছে,
কিভাবে তাকে গিয়ে বলবে, এত বড়
বাড়ি দেখলে কি হবে তোমাকে একবেলা খাওয়ানোর
মতন খাবার তাদের নেই ।
ভাবতে ভাবতে সে ভিক্ষুকের
কাছে আসলো এবং বলল, ভাই
ওনারা ধনী মানুষ তো, খাবার কম খায়
শরীর ভাল রাখার জন্য। তাই খাবার
রান্নাও করে কম, এজন্য
তোমাকে দেবার মতন খাবার নাই । এই
কথা বলে নিজের পকেট থেকে ৫
টাকা বের করে বলল আমার কাছে এই
কয়টা টাকাই আছে, তুমি কিছু খাবার
কিনে খেয়ে নিও। ভিক্ষুকের
মনটা খারাপ হয়ে গেল।
সে দারওয়ানের টাকাটা নিয়ে হাত
তুলে দোয়া করল , হে আল্লাহ্
যে আমাকে ক্ষুধা নিবারণের জন্য তার
যা ছিল তাই আমাকে দিয়ে দিল
তাকে তুমি দুনিয়া এবং আখিরাতের
ধনী বানিয়ে দিও । এই
কথা বলে সে চলে গেল ।
কিছুদিন পর দারওয়ান একটা লটারির ১ম
পুরস্কার পেল । সে ঐ
টাকা দিয়ে বিজনেস শুরু করল,
কিছুদিনের মধ্যেই তার অনেক
টাকা হয়ে গেলে । সেই
টাকা দিয়ে সে একটা আশ্রম বানাল ।
যেখানে অসহায়, অনাথ , বয়স্ক লোকজন
থাকত ।
এদিকে যে বাড়িতে সে কাজ
করতো সেই বাড়ির কর্তা হঠাৎ
মারা যায় । ছেলেমেয়েরা সবাই যার
যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত । বাড়ির
কর্ত্রী সবার কাছে বোঝা হয়ে উঠল ।
সবাই মিলে তাকে ওই দারওয়ানের
আশ্রমে রেখে আসলো । আসার পর দেখল
তার বাড়ির এক সময়ের দারওয়ান এই
আশ্রমের মালিক । ভাগ্যের কি নির্মম
পরিহাস এই আশ্রমে সেদিনের সেই
ভিক্ষুকটাও থাকে ।"
--এই লেখা যদি কারো মনে একটুও দাগ
কাটে আর অসহায়দের দিকে সাহায্যের
হাত বাড়ায় তাহলেই লেখার
সার্থকতা ।
Subscribe to:
Comments (Atom)

